মুখবন্ধ

ঘাটাইল উপজেলা বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা। এ উপজেলা টাঙ্গাইল জেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার উত্তরে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে বিস্তৃীত। ৪৫১.৩০ বর্গ কিলোমিটার আয়তন, চার লাখ ৩৪ হাজার জনসংখ্যা, একটি পৌরসভা, ৪২৭টি গ্রাম, ১৪টি ইউনিয়ন, ৩০৬টি মৌজা, এক লাখ চার হাজার পরিবার নিয়ে ঘাটাইল প্রধানত একটি কৃষি প্রধান এলাকা। ঘাটাইল পৌরসভা এবং ঘাটাইল, জামুরিয়া, আনেহলা, লোকেরপাড়া, দেউলাবাড়ী, সন্ধানপুর, রসুলপুর, ধলাপাড়া, সাগরদীঘি, দিগর, দিঘলকান্দি, দেওপাড়া, সংগ্রামপুর, লক্ষ্মীন্দর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঘাটাইল উপজেলা।

ঘাটাইল উপজেলার মানুষদের সাক্ষরতার হার ৪৪ শতাংশ। উপজেলায় সাতটি (মহিলা কলেজ ১টি) কলেজ, সাতটি ফাজিল মাদ্রাসা, ২৭টি দাখিল মাদ্রাসা, ১২টি এবতেদিয়া মাদ্রাসা (স্বতন্ত্র ও এমপিও ভূক্ত), ১৫৯টি সরকারি প্রাথ্যমিক বিদ্যালয়, ছয়টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩৬টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (বালক), সাতটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (বালিকা) রয়েছে। বর্তমানে ঘাটাইলে গার্মেন্টস কারখানাসহ বিস্তীর্ণ পাহাড়িয়া অঞ্চলে বেশ কয়েকটি শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে।

ঘাটাইল জনপদটি যে ভূমির উপর গড়ে ওঠেছে তা মধুপুর কর্দম নামক আদিম প্রস্তর দ্বারা গঠিত, তবে সবটুকু অঞ্চল নয়। উপজেলার উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত গেরুয়া বর্ণের টিলা ভূমিটি এ প্রাগৈতিহাসিক যুগের স্বাক্ষ্য বহন করে। এই অংশটুকু ধলাপাড়া, রসুলপুর, সন্ধানপুর, লক্ষ্মীন্দর, সাগরদীঘি, সংগ্রামপুর ও দেওপাড়া ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। টিলা ভূমিটি ক্রমশ নিচু হয়ে ঘাটাইল উপজেলা সদর থেকে দুই কিলোমিটার পূর্বে ঝড়কা বাজারের কাছে এসে উত্তর দক্ষিণে পলল বিস্তৃত ভূমিতে মিশে গেছে। এই পলল ভূমি তুলনামূলকভাবে নবীন। অনুমান করা হয় বয়স দুই হাজার বছরের কম হবে। ১৮৬১ সালে গোপালপুর থানার অধীনে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপিত হয়ে ১৯০৬ সালে ঘাটাইল থানায় উন্নীত হয়।

নীতিমালা ও উদ্দেশ্য:

২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ঘাটাইলডটকম কর্তৃক ‘ঘাটাইলডটকম সম্মাননা’ প্রবর্তন করা হয়েছে। সম্পূর্ণ ব্যক্তি স্বার্থ ও রাজনৈতিকভাবে প্রণোদিত না হয়ে গুণীজনদের এই সম্মাননা প্রদানের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বদ্ধ পরিকর।

ঘাটাইলের অধিবাসী যাঁরা স্ব-স্ব অবস্থান থেকে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন তাদের কর্মকাণ্ড যথার্থ সনাক্ত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উৎসাহিত এবং অবদানের ক্ষুদ্র মূল্যায়ন করার চেষ্টা করাই এই সম্মাননা প্রবর্তনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

পুরস্কারের বিবরণ :

১। পুরস্কারের নাম- ‘ঘাটাইলডটকম সম্মাননা’।

২। পুরস্কারের মূল্যমান নগদ ৫,০০০/= (পাঁচ হাজার) টাকা। পুরস্কারের সঙ্গে ক্রেস্ট ও ‘ঘাটাইলডটকম’ কর্তৃক স্বাক্ষরিত সম্মাননাপত্র।

৩। প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫(পাঁচ) জন গুণী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কার প্রদান করা হবে।

৪। সমাজসেবা, সাংবাদিকতা, সাহসিকতা, কৃষি ও রত্নগর্ভা এই পাঁচটি বিষয়ে অবদানের জন্য এ পুরস্কার প্রদান করা হবে। পরবর্তীতে পুরস্কার প্রদানের বিষয় পরিবর্তিত হতে পারে।

৫। ঘাটাইলডটকম পৃষ্ঠপোষকতায় ঘাটাইলডটকম কর্তৃক এই পুরস্কার প্রদান করা হবে।

৬। সাধারণত প্রতি বছর মহান স্বাধীনতার মাস মার্চে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।

৭। পুরস্কার মরণোত্তরও প্রদান করা যাবে।

৮। সম্মাননা পুরস্কার প্রদানের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকবে। ওই কমিটি মনোনীত ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব করবেন।

সম্মাননা পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতা:

১।  জন্মসুত্রে ঘাটাইল উপজেলার অধিবাসী হতে হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে অন্য উপজেলার গুণীজনও সম্মাননা প্রাপ্তিতে বিবেচিত হবেন।

২। দল, মত, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে পুরস্কার যেকোনো প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, দল বা ব্যক্তি বিশেষকে প্রদান করা হবে।

৩। পুরস্কারের জন্য কোনো ব্যক্তিগত আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

৪। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে একবারই এ পুরস্কার প্রদান করা হবে।

৫। পুরস্কার ব্যবস্থাপনা কমিটির কোনো সদস্যকে পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়া যাবে না।

৬। পুরস্কার পাওয়ার জন্য ঘাটাইলডটকম প্রদত্ত ফরম পূরণ করতে হবে।

৭। সম্মাননা পাওয়ার জন্য বয়স শিথিলযোগ্য।

৮। এ নীতিমালা আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন, বিয়োজন বা বাতিল করার অধিকার ঘাটাইলডটকম কর্তৃপক্ষর সংরক্ষণ করবে।

পুরস্কার ব্যবস্থাপনা কমিটি :

১। ঘাটাইলডটকম সম্মাননা প্রদানের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটি ‘ঘাটাইলডটকম সম্মাননা ব্যবস্থাপনা কমিটি’ নামে অভিহিত হবে। কমিটিতে একজন আহবায়ক, তিনজন সদস্য ও একজন সদস্য সচিব থাকবেন। নতুন কমিটি না হওয়া পর্যন্ত পুরাতন কমিটিই দায়িত্ব পালন করবেন।

২। কমিটি পুরস্কারের জন্য গুণীজন মনোনয়ন বিতরণ ও এতদসংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব পালন করবেন।

৩। পুরস্কার ব্যবস্থাপনা কমিটি ঘাটাইলডটকম কর্তৃপক্ষর অনুমোদন সাপেক্ষে গঠন করা হবে।

৪। পুরস্কার প্রদানের বিষয়ে পুরস্কার ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

 

পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন :

১। পুরস্কার ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রাথমিকভাবে পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য গুণীজনদের নাম প্রস্তাব করবেন।

২। কমিটি বিভিন্ন মহল থেকেও উপযুক্ত গুণীজনের নাম প্রস্তাব আহবান করতে পারবেন।

৩। পুরস্কারের জন্য প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত গুণীজনদের নামের তালিকা পুরস্কার ব্যবস্থাপনা কমিটি ঘাটাইলডটকম এর নিকট উপস্থাপন করবেন এবং আলোচনা সাপেক্ষে তালিকা চুড়ান্ত করবেন।

পুরস্কার ঘোষণা :

১। পুরস্কারের জন্য মনোনীত গুণীজনের নামের তালিকা প্রতি বছর সাধারণত মহান স্বাধীনতার মাস মার্চের মধ্যে ঘোষণা করা হবে।

২। পুরস্কার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিবের স্বাক্ষরসহ পুরস্কারের জন্য মনোনীত গুণীজনের তালিকাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

পুরস্কার প্রদান :

১। ব্যবস্থাপনা কমিটি পূর্ব নির্ধারিত তারিখে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সন্মানিত নাগরিকদের উপস্থিতিতে গুণীজনদের সম্মাননা পুরস্কার তুলে দিবেন।

২। ঘাটাইলডটকম এর মনোনীত ব্যক্তি পুরস্কার গুণীজনদের তুলে দেবেন।

৩। প্রতি বছর পুরস্কার প্রাপ্ত গুণীজনদের সম্পর্কে একটি পরিচিতিমূলক পুস্তিকা/ স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হবে।

৪। পুরস্কৃত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সম্মাননা পাওয়ার যোগ্যতার দালিলিক তথ্য অবশ্যই ঘাটাইলডটকম কর্তৃপক্ষর নিকট হস্থান্তর করবেন।