ভবিষ্যৎ সু নাগরিক বা প্রজন্ম হচ্ছে পুরুষ পরম্পরায় বিশেষ এক স্তর (তিন প্রজন্ম আগে বা পরে); সমকালীন ব্যক্তিবৃন্দ, নতুন বা পরবর্তী প্রজন্ম; সৃষ্টি, সন্তান, জন্ম, ইতিহাস, পুরুষ, উদ্ভব, বংশধর, পর্যায়, জনন, উৎপাদন, সংজনন, প্রজনন, বংশের পর্যায়, জ্ঞাতি, বংশপরস্পরা। প্রজন্ম, একটি দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ নির্ণায়ক। বর্তমান যদি সুষ্ঠু ও সঠিক প্রজন্ম বিনির্মাণ করতে সক্ষম হয় তাহলে সেই দেশ ও জাতি আগামী বছরগুলো বিশ্ব দরবারে বলিষ্ঠ উদ্ভাসিত হতে সক্ষমতা অর্জন করে।

শিশু-কিশোরদের বাংলাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি, ভাষা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রেখে দেশ, মাটি ও মানুষের নিরবচ্ছিন্ন সুরধারা সঞ্চারনের লক্ষ্যে উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে অনেক ব্যক্তি ও সংগঠন কাজ করে থাকে। সু-নাগরিকের আত্মায় প্রবল স্বতঃস্ফূর্তভাবে লিপিবদ্ধ থাকে দেশপ্রেমের নির্মল ও পবিত্র আবেগ, তা যে কেউ বুঝতে পারে এবং তাতে মাথা নত করে সবাই। আস্তিন গুটিয়ে বা কোমরে কাপড় পেঁচিয়ে দেশপ্রেম প্রকাশের প্রয়োজন হয় না।

বাঙালি এক অদ্ভুত জনগোষ্ঠী, অতি অনিশ্চিত তার স্বভাব। তার এক প্রজন্মের সঙ্গে আরেক প্রজন্মের স্বভাব-চরিত্রে মিলের চেয়ে গরমিল বেশি। এক প্রজন্ম যদি স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করে তো আরেক প্রজন্ম তা খোয়াতে কিছুমাত্র দ্বিধা করে না। এক প্রজন্ম যদি সাহিত্য-বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে তো আরেক প্রজন্ম ২৮ দিনে ৫ হাজার ৬০০ বই প্রকাশকেই মনে করে বিরাট বাহাদুরি। এক প্রজন্মের কাছে মান বড় তো আরেক প্রজন্মের কাছে পরিমাণ। এক প্রজন্মের এক বিজ্ঞানী যদি বলেন, গাছের প্রাণ আছে, খবরদার নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া গাছের গোড়ায় করাত বা কুড়াল চালিয়ো না, ডালপালাও কেটো না। গাছের অনুভূতি আছে, ওরা ব্যথা পায়। আরেক প্রজন্ম কথায় কথায় গাছ কেটে সাবাড় করে। বাঙালির এক প্রজন্ম যদি বাংলা ভাষার জন্য রাজপথ রক্তে রঞ্জিত করে, স্লোগান দেয় ‘উর্দু না বাংলা বাংলা’; আরেক প্রজন্মের কাছে ইংলিশ ও হিন্দির কদর বেশি। এক প্রজন্ম যদি ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে তো আরেক প্রজন্ম ধর্মান্ধতা ও ধর্মীয় মৌলবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এক প্রজন্ম যদি বাক স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের জন্য লড়াই করে তো আরেক প্রজন্ম বাক স্বাধীনতা ও মানবাধিকার হরণ করে আনন্দ পায়। বাঙালির এক প্রজন্ম যদি গণতন্ত্রের জন্য অকাতরে জীবন দেয় তো আরেক প্রজন্ম গণতন্ত্র হত্যা করে সুখ পায়।

বাঙালির কোন প্রজন্ম কী আচরণ করবে, তা সৃষ্টিকর্তার পক্ষেও অনুমান করা অসম্ভব। নাগরিকদের প্রজন্ম ভোগ করে রাষ্ট্র প্রদত্ত বা সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার এবং তাদের রয়েছে রাষ্ট্রের প্রতি অবশ্যপালনীয় কিছু দায়িত্ব। রাষ্ট্র যেমন নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণ করতে পারে না, তেমনি সে তার নাগরিক দায়িত্বও এড়াতে পারে না। মৌলিক অধিকার ও দায়দায়িত্ব সবার ক্ষেত্রে সমান প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষটি এবং পথের সহায়-সম্বলহীন নিঃস্ব ভিখেরি উভয়েরই মৌলিক মানবাধিকার সমান। যদি কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাউকে তার সেই মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, তাহলে তাকে আর ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকান বা গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র বলে আখ্যায়িত করা যায় না।

ঠিক এইসব বিষয়গুলোই আমাদের প্রজন্ম ও নাগরিকদের মধ্যে প্রস্ফুটিত ও দেশপ্রেম জাগ্রত করা এবং প্রজন্মকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ঘাটাইলডটকম ‘সু-নাগরিক’ ক্যাটাগরিতে ‘ঘাটাইলডটকম সম্মাননা’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।